আশ্রয়শিবিরে আবার সংঘর্ষ, গুলিতে ৪ রোহিঙ্গা নিহত

কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে মঙ্গলবার রাতে সন্ত্রাসীদের দুটি পক্ষের মধ্যে আবার সংঘর্ষ হয়েছে। এতে গুলিতে নিহত হয়েছেন চার রোহিঙ্গা শরণার্থী। রাত ১০টা পর্যন্ত নিহত কারও পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। এই আশ্রয়শিবিরে আগের দুই দিন—রবি ও সোমবার সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত হয়েছেন আরও তিনজন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. সামছুদ্দৌজা প্রথম আলোকে বলেন, রাত সোয়া নয়টা পর্যন্ত আশ্রয়শিবির থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা চারজন রোহিঙ্গা শরণার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে। তখনো সেখানে সন্ত্রাসী দলগুলোর মধ্যে গোলাগুলি ও সংঘর্ষ চলছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে কাজ করছে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।পুলিশ জানায়, গত সোমবার রাতে কুতুপালং লম্বাশিয়া শিবির থেকে মোহাম্মদ ইয়াসিন (২৭) নামের এক রোহিঙ্গা যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে। সন্ত্রাসী মুন্না বাহিনীর সদস্যরা চাঁদার দাবিতে ইয়াসিনকে অপহরণ করে গলা কেটে হত্যা করে। এর জের ধরে আবার দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত বলে মনে করছেন সাধারণ শরণার্থীরা।

কুতুপালং রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান হাফেজ জালাল আহমদ বলেন, গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে একদল অস্ত্রধারী রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী হঠাৎ লম্বাশিয়া শিবিরের ডব্লিউ-১ ব্লকে হানা নিয়ে মুন্না বাহিনীর প্রধান মুন্নার মা, বাবা ও দুই ভাইকে অপহরণ করে পাহাড়ে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে মুন্না বাহিনীর সদস্যরা আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে কুতুপালং শিবিরে আসাদ বাহিনীর সদস্য ও সমর্থকদের ঘরবাড়িতে হামলা চালায়। এরপর শুরু হয় দফায় দফায় সংঘর্ষ।

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আশ্রয়শিবিরের অভ্যন্তরে আধিপত্য বিস্তার, ইয়াবা ও স্বর্ণ চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ, শিবিরের তৈরি দোকানপাট থেকে নেওয়া চাঁদার টাকা ভাগাভাগি নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে মুন্না ও আসাদ বাহিনীর মধ্যে গোলাগুলি এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সাধারণ শরণার্থীরা বলেন, উভয় পক্ষে চার শতাধিক সন্ত্রাসী রয়েছে। সন্ত্রাসীদের অনেকের হাতে ভারী ও দেশীয় তৈরি বন্দুক দেখা যায়।উখিয়া থানার ওসি আহমেদ সঞ্জয় মোর্শেদ প্রথম আলোকে বলেন, রোববার রাতে কুতুপালং শিবিরে এই দুই সন্ত্রাসী গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলিতে দুই শরণার্থীর মৃত্যু হয়েছিল। নিহত ব্যক্তিরা হলেন কুতুপালং ৩ নম্বর শিবিরের বাসিন্দা ইমাম শরীফ (৩৩) ও শামসুল আলম (৪৫)। তাঁরা দুজন সাধারণ রোহিঙ্গা।

কুতুপালং আশ্রয়শিবিরটি ২০-২৫টি পাহাড়ে গড়ে তোলা হয়েছে। কুতুপালংসহ আশপাশের কয়েকটি আশ্রয়শিবিরে বসতি আট লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীর। এর মধ্যে ১৯৯০ সালে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীরাও রয়েছে। আগের আসা শরণার্থী গ্রুপের মুন্না বাহিনীর সঙ্গে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে নতুন আসা (২০১৭ সালে) আসাদ বাহিনীর মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে থেমে থেমে গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে বলে জানান শরণার্থীরা।

Enjoyed this article? Stay informed by joining our newsletter!

Comments

You must be logged in to post a comment.

About Author